• মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ন
Headline
রায়গঞ্জের শ্যামনাই-দূর্গাপুর সড়ক সংস্কারে এগিয়ে এলেন উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সাব্বির শিক্ষার্থীকে বিয়ে করে বিতর্কে কলেজ শিক্ষক, সামনে এলেন আরেক ‘স্বামী’ তাড়াশে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র মারুফ হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করলে এটাকে ধর্ষণ বলা যাবে না, এলাহাবাদ হাইকোর্ট পরিবেশ দূষণের দায়ে সিরাজগঞ্জে অবৈধ কারখানাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা রায়গঞ্জে ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন চৌহালীর উমারপুরে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রচারণা ও বিমা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত জন্ম থেকেই পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াতে পারে না কর্ন একটি হুইলচেয়ারের অপেক্ষায় প্রতিবন্ধী শিশুটি রায়গঞ্জে শ্রী রামচন্দ্রের ছবিতে জুতা নিক্ষেপের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন সংবাদ প্রকাশের পর রায়গঞ্জে সংস্কার হলো ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করলে এটাকে ধর্ষণ বলা যাবে না, এলাহাবাদ হাইকোর্ট

Reporter Name / ৩৪ Time View
Update : রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

চ্যালেন সিক্স ডেক্স,

দুজন প্রাপ্তবয়স্কের পারস্পরিক সম্মতিতে গড়ে ওঠা শারীরিক সম্পর্ককে কেবল ‘বিয়ের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার’ অজুহাতে ‘ধর্ষণ’ বলা যাবে না। এক ঐতিহাসিক রায়ে এই পর্যবেক্ষণ দিয়েছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদ হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে বিচারাধীন থাকা ধর্ষণের মামলাসহ সমস্ত ফৌজদারি কার্যক্রম বাতিল করে দিয়েছে। খবর এনডিটিভির। এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি বিবেক কুমার সিংহের একক বেঞ্চ সঞ্জয় সরোজ ওরফে সঞ্জয় কুমার নামের এক আবেদনকারীর দায়ের করা পিটিশন মঞ্জুর করে এই রায় দেন। ৩৪ পৃষ্ঠার রায়ে আদালত স্পষ্ট করে জানায়, মামলার সমস্ত নথি ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তাদের মধ্যকার সম্পর্কটি সম্পূর্ণ পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতেই গড়ে উঠেছিল। যদি অভিযোগকারী নারী স্বেচ্ছায় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে সম্মতি দিয়ে থাকেন, তবে সেখানে ধর্ষণের উপাদান থাকে না। এফআইআর দায়েরের পর ওই নারী অভিযুক্তকে বিয়েও করেছিলেন। এতে প্রমাণিত হয়, মূলত বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করতেই ওই যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করা হয়েছিল। আদালত একে একটি ‘বিরল’ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে বলে, এই মামলার বিচার চালানো আদালতের মূল্যবান সময়ের অপচয় এবং বিচার প্রক্রিয়ার চরম অপব্যবহার ছাড়া আর কিছুই নয়।মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনাটি প্রয়াগরাজের (সাবেক এলাহাবাদ) কর্নেলগঞ্জ থানার। ২০১৯ সালে প্রয়াগরাজের বাসিন্দা সঞ্জয় সরোজের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ (ধর্ষণ), ৩২৩, ৫০৪ এবং ৫০৬ ধারায় মামলা করেন প্রতাপগড়ের এক তরুণী। তিনি ২০১৪ সালে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে প্রয়াগরাজে এসেছিলেন। সঞ্জয় তার দূর সম্পর্কের আত্মীয় হওয়ায় তাকে পড়াশোনা ও থাকার ব্যবস্থা করতে সাহায্য করেন। এই সময়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। সম্পর্কটি প্রায় পাঁচ বছর (২০১৪ থেকে ২০১৯) স্থায়ী হয়। তরুণীর অভিযোগ ছিল, সঞ্জয় বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করারও অভিযোগ আনেন তিনি। ২০২০ সালে পুলিশ এই মামলায় চার্জশিট জমা দেয়।

আদালত উভয় পক্ষের যুক্তি শুনে। এরপর ভারতের সুপ্রিম কোর্টের ‘প্রমোদ সূর্যভান পাওয়ার’ ও ‘দীপক গুলাটি’ মামলার নজির টেনে স্পষ্ট করে, ধর্ষণের মামলা কেবল তখনই টিকবে যখন প্রমাণিত হবে যে বিয়ের প্রতিশ্রুতিটি শুরু থেকেই ‘মিথ্যা’ ছিল এবং প্রতারণার উদ্দেশ্যেই সম্মতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই মামলায় দীর্ঘ ৫ বছর ধরে তাদের সম্পর্ক বজায় ছিল। আদালত মন্তব্য করে, প্রতিবারই কেবল বিয়ের প্রতিশ্রুতির কারণে সম্মতি দেওয়া হয়েছিল। এটি মেনে নেওয়া কঠিন। দীর্ঘমেয়াদি প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদকে ধর্ষণের রূপ দেওয়া আইনের অপব্যবহার। ফলে আদালত প্রয়াগরাজ ট্রায়াল কোর্টে ঝুলে থাকা এই মামলাটি সম্পূর্ণ খারিজ করে দেয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category