নিজস্ব প্রতিবেদক,
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার শালিয়াগাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী জিম হোসেনকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত জাওয়াদ মাহমুদকে গ্রেপ্তার করেছে রায়গঞ্জ থানা পুলিশ। বুধবার (১৩ মে) রাতে ধামাইনগর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে একাধিক স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, জাওয়াদ মাহমুদ এলাকা ছেড়ে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরে ধামাইনগর বাজার এলাকায় তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, ছুরিকাঘাতে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম খান বলেন, “ঘটনার পরপরই পুলিশ সক্রিয়ভাবে অভিযান শুরু করে। অভিযুক্ত জাওয়াদ মাহমুদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে শালিয়াগাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে জিম হোসেন নামে এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
জানা গেছে, ধামাইনগর ইউনিয়নের বাঁকাই গ্রামের ইমতিয়াজ মাহমুদ সুজনের ছেলে জাওয়াদ মাহমুদের বাড়ির সামনে টানানো একটি ব্যানার ছিঁড়ে ফেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় একই গ্রামের সুলতান মাহমুদের ছেলে জিম হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।
পরে জাওয়াদ মাহমুদ ও ইয়াছিন তাদের সহযোগীদের নিয়ে শালিয়াগাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভেতর থেকে জিম হোসেনকে ডেকে নেয়। এরপর তাকে ছুরিকাঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।