নিজস্ব প্রতিবেদক:
বগুড়ার ধুনট থানার এক উপপরিদর্শক (এসআই) অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়েছেন। অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে থানা থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে বগুড়া জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
গত রোববার (১২ জুলাই) বগুড়ার পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদের স্বাক্ষরিত এক আদেশে এসআই মোস্তাফিজার রহমানকে ধুনট থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জুন ধুনট উপজেলার জোড়শিমুল গ্রামের এক নারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর ছেলেকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর পর চুক্তি অনুযায়ী কাজের ব্যবস্থা করে দেননি সংশ্লিষ্ট দালাল। ওই অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এসআই মোস্তাফিজার রহমানকে।
তদন্তের স্বার্থে এসআই মোস্তাফিজার রহমান অভিযোগকারীর বাড়িতে একাধিকবার যাতায়াত করেন। এ সময় অভিযোগকারীর প্রবাসী ছেলের স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে তাঁদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠার অভিযোগ ওঠে।
বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে এলে বগুড়ার পুলিশ সুপারের নির্দেশে ধুনট থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শুকুর আলী ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেন। তদন্তের একপর্যায়ে এসআই মোস্তাফিজার রহমান ও ওই প্রবাসীর স্ত্রীর মধ্যে মোবাইল ফোনে হওয়া আপত্তিকর কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ উদ্ধার করা হয় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ১০ জুলাই পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শুকুর আলী তদন্ত প্রতিবেদন পুলিশ সুপারের কাছে জমা দেন। প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ১২ জুলাই এসআই মোস্তাফিজার রহমানকে ধুনট থানা থেকে প্রত্যাহার করে বগুড়া জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ধুনট থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শুকুর আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ লাইনসে সংযুক্তির আদেশ পাওয়ার পর এসআই মোস্তাফিজার রহমানকে থানা থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এটি একটি প্রশাসনিক ও শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা। প্রয়োজন হলে বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।