তাড়াশ প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের সিংগাড়পাড়া গ্রামে গরু চুরি ঠেকাতে পাহারার ব্যবস্থা করেছেন এলাকাবাসী। তাড়াশ উপজেলায় পরপর কয়েকটি চুরির ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে গ্রামের কৃষক ও সাধারণ মানুষ নিজেদের গবাদিপশু রক্ষায় এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাড়াশ উপজেলায় সংঘবদ্ধ চোরচক্রের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গভীর রাতে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে কৃষক ও খামারিদের গবাদিপশু চুরি হয়ে যাচ্ছিল। চোর আতঙ্কে দিনযাপন করা গ্রামবাসীরা অবশেষে নিজেরা সংগঠিত হয়ে রাত জেগে পাহারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ দিনের ব্যবধানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের হাতে অন্তত ২৪টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে।
সিংগাড়পাড়া গ্রামের মহল্লায় একাধিক দল গঠন করে এই পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সূর্যাস্তের পর থেকেই পর্যায়ক্রমে সারারাত গ্রামবাসী লাঠি ও টর্চলাইট হাতে নিয়ে গ্রামের প্রতিটি গলি, সড়ক ও গোয়ালঘরের চারপাশ ঘুরে ঘুরে পাহারা দিচ্ছেন।
সিংগাড়পাড়া গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা মো. নুরুজ্জামান তালুকদার বলেন, ‘গরু চুরি আমাদের এলাকার বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটা গরু হারিয়ে যাওয়া মানে একটা কৃষকের সারা জীবনের সঞ্চয় শেষ হয়ে যাওয়া। সারাদিন মাঠে কাজ করার পর রাতে ঘুমানোর সুযোগ নেই, গবাদিপশু বাঁচাতে বাধ্য হয়েই আমাদের লাঠি-টর্চলাইট নিয়ে পাহারা দিতে হচ্ছে।’
এ বিষয়ে তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.ইমার জাফর দৈনিক আইন বার্তা’কে জানান, ‘গরু চুরির বিষয়গুলো আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি। ইতোমধ্যে পুলিশি টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। গোয়ালের গরু শুধু সম্পদ নয়, এটি অনেকের জীবন-জীবিকার মূল ভিত্তি। পুলিশ ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া অপরাধ দমন সম্ভব নয়। গ্রামবাসী পাহারা দেওয়ার পাশাপাশি যেকোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তির গতিবিধি দেখলেই পুলিশকে খবর দিন।