রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, ত্যাগ ও প্রতিকূলতার অভিজ্ঞতাকে সঙ্গী করে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মো. আব্দুল কুদ্দুস মন্ডল। তিনি রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা এই নেতা এবার ইউনিয়নবাসীর দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন প্রত্যাশা করছেন।
আব্দুল কুদ্দুস মন্ডল দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে সোনাখাড়া ইউনিয়নে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।
তাঁর রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতার কথাও উঠে এসেছে। আব্দুল কুদ্দুস মন্ডলের দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে রাজনৈতিক কারণে তিনি একাধিকবার কারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিভিন্ন সময় মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবরণের মধ্য দিয়েও তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন বলে জানান।
তিনি বলেন, ‘রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি। বিগত সরকারের সময়ে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে। তারপরও দলের আদর্শ ও নেতাকর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। দুর্দিনে রাজনীতির মাঠ ছেড়ে যাইনি।’
বর্তমানে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সোনাখাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, মতবিনিময় ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন আব্দুল কুদ্দুস মন্ডল। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের মানুষের সেবা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন তিনি।
চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুস মন্ডল বলেন, ‘২০১৬ সালে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছিলাম। এবারও দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভালোবাসা এবং সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। জনগণ আমাকে সুযোগ দিলে দল-মত নির্বিশেষে সোনাখাড়া ইউনিয়নের মানুষের জন্য কাজ করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে রাস্তাঘাট ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেব। ইউনিয়নের মানুষের সমস্যা শুনে তা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে চাই।’
স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অতীতের নির্বাচনী অভিজ্ঞতার বিষয়টি সামনে রেখে বর্তমানে সোনাখাড়া ইউনিয়নে তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দলীয় সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
আব্দুল কুদ্দুস মন্ডল বলেন, ‘চেয়ারম্যানের পদকে আমি ক্ষমতার বিষয় হিসেবে দেখি না; জনগণের সেবা করার দায়িত্ব হিসেবে দেখি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, তা কাজে লাগিয়ে সোনাখাড়া ইউনিয়নের মানুষের পাশে থাকতে চাই।’