মো: মুন্না হুসাইন তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধ:
তাড়াশ উপজেলায় নিত্যপণ্যের বাজারে দাম বাড়ার ধারা অব্যাহত রয়েছে। সবজি, মাছ, মুরগি ও ডিম—প্রায় সব ক্ষেত্রেই বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। শিমের কেজি পৌঁছেছে ১০০ টাকায়, আর ডজনপ্রতি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। মাছের দামও কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। শনিবার তারাশ উপজেলার মান্নান নগর , মহিষ লুটি,ও ঐতিহ্যবাহী নওগার হাটের এলাকার বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারে প্রতি কেজি ধুন্দল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা, টমেটো ১২০, লাউ ৪০ থেকে ৫০, কাঁচামরিচ ১২০ এবং ফুলকপি ৮০ টাকায়। শসা ও করলার দাম কেজিপ্রতি ৮০ টাকা। গোল বেগুন ৮০ এবং লম্বা বেগুন ৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া গাজর ১০০, কাঁকরোল ৮০, পটল ৬০, ঢ্যাঁড়স ৬০, কচুরমুখী ৮০, চিচিঙ্গা ৬০ এবং পেঁপে ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় শিমের দাম, যা কেজিপ্রতি ১০০ টাকায় পৌঁছেছে। লেবুর হালিও বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়।
মান্নান নগর বাজারের এক সবজি বিক্রেতা জানান, পাইকারি পর্যায়ে বেশি দামে সবজি কিনতে হওয়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। নতুন মৌসুমের কিছু সবজি বাজারে আসা শুরু করায় সেগুলোর দাম তুলনামূলক বেশি বলেও জানান তিনি।
ঐতিহ্যবাহী নওগার হাটের কাঁচাবাজারের এক বিক্রেতার ভাষ্য, বর্তমানে বেশিরভাগ সবজির উৎপাদন কম থাকায় সরবরাহও কমেছে। তবে মৌসুমি সবজি পুরোপুরি বাজারে এলে দাম কমে আসতে পারে। বর্তমানে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে।
সবজির পাশাপাশি মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২০০ টাকা, কাতল ৪৫০ টাকা এবং আকারভেদে রুই ৩৬০ থেকে ৪২০ টাকায়। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত।
বিক্রেতাদের দাবি, আড়তে মাছের সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। চাহিদার তুলনায় মাছ কম পাওয়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে।
মুরগির বাজারেও বেড়েছে দাম। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা, সোনালি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৮০ থেকে ৩৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের অভিযোগ, পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
ডিমের দামও ক্রেতাদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বর্তমানে ডজনপ্রতি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি পর্যায়ে প্রতিদিনই দাম বাড়ছে।
মান্নান নগর ও গুলশান এলাকার কয়েকজন ক্রেতা জানান, আগে মাছের দাম বেশি হলে তুলনামূলক কম খরচে সবজি বা ডিম কিনে বাজারের তালিকা সামলানো যেত। এখন সবজির পাশাপাশি ডিমের দামও বেড়ে যাওয়ায় সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বাজার করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
এক ক্রেতা বলেন, দুদিন আগেও তেলাপিয়া ও রুই মাছের দাম নাগালের মধ্যে ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে গেছে। ইলিশের দামও এত বেশি যে কিনতে পারছেন না।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এমন ঊর্ধ্বগতিতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন সীমিত আয়ের মানুষ। তাদের অভিযোগ, বাজারে প্রতিদিনই কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ছে, ফলে প্রয়োজনীয় পণ্যের তালিকা ছোট করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।