• সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০০ অপরাহ্ন
Headline
গ্রামের নাপিতের ঐতিহ্য এখনো ধরে রেখেছেন সানা শীল টাঙ্গাইল পুরাতন বাস স্ট্যান্ড প্যারাডাইস শাজাহান সিরাজ নিবাস বিল্ডিং থেকে পড়ে গিয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু বাগমারায় মাদারীগঞ্জ-ভবানীগঞ্জ সড়কের দুই পাশে আগাছার জঙ্গল, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী সোনাখাড়ার উন্নয়ন ও মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রবীন কুমার গুন লিটন রায়গঞ্জে মামলার তদন্তে রাজু আহম্মেদ গ্রেপ্তার, আদালতে প্রেরণ টাঙ্গাইল পৌরসভার ৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের প্রাক্কলন ফাঁসের অভিযোগ দেওড়ায় ঈদগাহ মাঠকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ছাত্রদল নেতাসহ আহত কয়েকজন আজ Channel 6-এর প্রতিষ্ঠাতা সুরনজিত সরকার সূর্যের জন্মদিন রাজশাহীতে ওসি আটক নিয়ে ছড়ানো খবরে সিরাজগঞ্জ পুলিশের প্রতিবাদ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ৬ নম্বর পোড়াবাড়ী ইউনিয়নে বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

তাড়াশে হাঁসের বাচ্চায় বদলে যাওয়া গ্রাম

Reporter Name / ২৩২ Time View
Update : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬

মোঃ মুন্না হোসাইন তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:

তাড়াশের মহেষরৌহালীতে গড়ে উঠেছে সম্ভাবনার নতুন অর্থনীতি
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের মহেষরৌহালী গ্রাম একসময় ছিল বিদ্যুৎহীন ও অবহেলিত একটি প্রত্যন্ত জনপদ। কৃষিনির্ভর এই গ্রামের অধিকাংশ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করতেন মৌসুমি ফসলের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই গ্রামের চিত্র এখন পুরোপুরি বদলে গেছে। হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন ও বাজারজাতকরণকে কেন্দ্র করে আজ মহেষরৌহালী গ্রাম পরিণত হয়েছে এক সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক অঞ্চলে।
স্থানীয় খামারি শাহ আলমের হাত ধরেই শুরু হয় এই পরিবর্তনের যাত্রা। প্রথম দিকে তুষ ও হারিকেনের তাপ ব্যবহার করে সনাতন পদ্ধতিতে হাঁসের ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা উৎপাদন করা হতো। সীমিত পরিসরে শুরু হলেও ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে চাহিদা। পরে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ইনকিউবেটর মেশিন ব্যবহার শুরু হলে উৎপাদনে আসে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।
বর্তমানে মহেষরৌহালী গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ছোট-বড় হ্যাচারি খামার। প্রতিদিন এসব খামারে লাখ লাখ হাঁসের বাচ্চা ফুটানো হচ্ছে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এখানকার উৎপাদিত হাঁসের বাচ্চা দেশের বিভিন্ন জেলার খামারিদের কাছে ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন।
খামার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাঁসের বাচ্চা উৎপাদনকে কেন্দ্র করে গ্রামের বহু বেকার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। কেউ ডিম সংগ্রহ করছেন, কেউ বাচ্চা পরিচর্যা করছেন, আবার কেউ পরিবহন ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। নারীরাও এখন এই শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
স্থানীয় খামারি শাহ আলম বলেন, “একসময় তুষ আর হারিকেন দিয়ে অল্প কিছু ডিম ফুটাতাম। এখন আধুনিক ইনকিউবেটর মেশিনে প্রতিদিন হাজার হাজার বাচ্চা ফুটছে। এই ব্যবসা শুধু আমার না, পুরো গ্রামের মানুষের ভাগ্য বদলে দিয়েছে।”এদিকে হাঁসের বাচ্চা ব্যবসার প্রসারের ফলে গ্রামের অর্থনৈতিক অবস্থারও উন্নতি হয়েছে। অনেক পরিবার পাকা বাড়ি নির্মাণ করেছেন, সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় পাঠাচ্ছেন এবং স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। গ্রামে বেড়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম। স্থানীয়রা মনে করছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা পেলে এই শিল্প আরও বিস্তৃত হবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা বাড়ানো গেলে মহেষরৌহালী গ্রাম দেশের অন্যতম বৃহৎ হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category