তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ষষ্ঠ শ্রেণির মেধাবী ছাত্র মারুফ হাসান হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) বিকেলে উপজেলার আমশড়া ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে মাদ্রাসার শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকাবাসী অংশগ্রহণ করেন।
নিহত মারুফ হাসান উপজেলার ঝুরঝুরি গ্রামের মোশাররফ হোসেনের একমাত্র ছেলে এবং আমশড়া ফাজিল মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মারুফ একজন মেধাবী ও ভদ্র স্বভাবের ছাত্র ছিল। তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কাওছার হোসেনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তারা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তি করে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানান।
সমাবেশে আমশড়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, “মারুফ আমাদের মাদ্রাসার অত্যন্ত মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের একজন ছাত্র ছিল। ২০২৪ সালের ৫ এপ্রিল তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং ঘাতক কাওছার হোসেনের সর্বোচ্চ শাস্তি, অর্থাৎ ফাঁসি দাবি করছি।”
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থী সুমাইয়া, মিতু ও আবু জাফর বলেন, “আমাদের সহপাঠী মারুফকে আমাদের মাঝ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমরা আর কোনো মারুফকে এভাবে হারাতে চাই না। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং খুনি কাওছারের ফাঁসি চাই।”
এ সময় মারুফের সহপাঠীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেয় এবং হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে নানা স্লোগান দেয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ এপ্রিল উপজেলার ঝুরঝুরি বাজারের তালুকদার মার্কেটের পেছনে মারুফ হাসানকে শ্বাসরোধে হত্যা করে একটি সেফটি ট্যাংকে লুকিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে র্যাব-১২-এর একটি আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত কাওছার হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেফটি ট্যাংক থেকে মারুফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা এ মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করে দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানান।