• বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০১:৩১ পূর্বাহ্ন
Headline
দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যের ঘোড়ার গাড়ি,স্মৃতিতে গেঁথে আছে এক সময়ের বাহন রায়গঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে জাল টাকাসহ এক যুবক গ্রেপ্তার সলঙ্গা থানা যুবদলের পক্ষ থেকে আওয়ামীলীগ এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত সলঙ্গায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৮৫০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক রায়গঞ্জের শ্যামনাই-দূর্গাপুর সড়ক সংস্কারে এগিয়ে এলেন উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সাব্বির শিক্ষার্থীকে বিয়ে করে বিতর্কে কলেজ শিক্ষক, সামনে এলেন আরেক ‘স্বামী’ তাড়াশে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র মারুফ হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করলে এটাকে ধর্ষণ বলা যাবে না, এলাহাবাদ হাইকোর্ট পরিবেশ দূষণের দায়ে সিরাজগঞ্জে অবৈধ কারখানাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা রায়গঞ্জে ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যের ঘোড়ার গাড়ি,স্মৃতিতে গেঁথে আছে এক সময়ের বাহন

Reporter Name / ২৫ Time View
Update : বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬

রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:

এক সময় রায়গঞ্জ উপজেলার গ্রামীণ জনপদের অন্যতম পরিচিত বাহন ছিল ঘোড়ার গাড়ি। মানুষের যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং নানা প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহৃত হতো এই ঐতিহ্যবাহী যান। তবে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যানবাহনের প্রসার, চারণভূমির সংকট এবং ঘোড়া পালনের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের অংশ ঘোড়ার গাড়ি। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হাতে গোনা কয়েকটি ঘোড়ার গাড়ি ছাড়া তেমন দেখা মেলে না এক সময়ের জনপ্রিয় এই বাহনের।

স্থানীয় প্রবীণরা জানান, কয়েক দশক আগেও উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও গ্রামীণ পথে ঘোড়ার গাড়ির ছিল ব্যাপক চলাচল। কৃষিপণ্য পরিবহন, হাট-বাজারে যাতায়াত এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে ঘোড়ার গাড়ির ব্যবহার ছিল সাধারণ ঘটনা। অনেক পরিবার এই পেশার ওপর নির্ভর করেই জীবিকা নির্বাহ করত এবং আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতা অর্জন করেছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অটোরিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল, ট্রাক্টর ও অন্যান্য ইঞ্জিনচালিত যানবাহনের ব্যবহার বাড়তে থাকে। ফলে দ্রুত কমে যায় ঘোড়ার গাড়ির প্রয়োজনীয়তা। আধুনিক যানবাহনের তুলনায় ধীরগতি ও রক্ষণাবেক্ষণের বাড়তি খরচের কারণে অনেক মালিক ঘোড়ার গাড়ি চালানো বন্ধ করে দেন।

উপজেলার কয়েকজন ঘোড়ার গাড়ির মালিক জানান, বর্তমানে ঘোড়া পালন আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল। পর্যাপ্ত ঘাস ও চারণভূমির অভাব, খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি এবং আয় কমে যাওয়ায় এ পেশায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে নতুন প্রজন্মও এ পেশার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

রায়গঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইলিয়াস হাসান শেখ বলেন, “ঘোড়ার গাড়ি আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সময়ের পরিবর্তনে এর ব্যবহার কমে গেলেও এটি আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে রয়ে গেছে। এ ধরনের ঐতিহ্য সংরক্ষণে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।”

স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমীদের মতে, ঘোড়ার গাড়ি শুধু একটি বাহন নয়, এটি গ্রামীণ জীবনধারা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। তাই ঐতিহ্যের এই নিদর্শন সংরক্ষণে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন।

এক সময় যে ঘোড়ার গাড়ির টুংটাং শব্দে মুখর থাকত রায়গঞ্জের গ্রামীণ জনপদ, আজ তা কেবল স্মৃতির পাতায় স্থান করে নিয়েছে। আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যেতে বসা এই ঐতিহ্যবাহী বাহন এখন অতীতের গৌরবগাথার নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category