• শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৬ অপরাহ্ন
Headline
এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে রায়গঞ্জে শীর্ষে ধানগড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজ রায়গঞ্জে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে অদম্য মেধাবীর এইচএসসিতে সাফল্য, এবার স্বপ্ন বিশ্ববিদ্যালয় রায়গঞ্জের সাংবাদিক আশরাফ আলী আর নেই রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা পাবনা বাজারে ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন রায়গঞ্জের সোনাখাড়া ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ নেতা ও ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেনের মিথ্যা চাঁদা দাবির অভিযোগের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে রায়গঞ্জ উপজেলা শ্রমিকদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম তোতা । রায়গঞ্জ ইটভাটা মালিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি আবু হানিফ, সম্পাদক জুবায়ের ও সাংগঠনিক ফরিদ নির্বাচিত বিশ্বাস এবং ভরসাযোগ্য প্রতিষ্ঠান, খান রেন্ট এ কার – এখানে বিলাস বহুল এসি হায়েস প্রাইভেট কার স্বল্প খরচায় ভারা পাওয়া যায় – প্রোপাইটার মোঃ রেজাউল করিম খান। যোগাযোগ, ভূইয়াগাতি বাজার সলঙ্গা রায়গঞ্জ সিরাজগঞ্জ। মোবাইল নাম্বার- ০১৭১৩-২৭০৯১৩ উৎসবমুখর পরিবেশে রায়গঞ্জ উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির নির্বাচন, জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী প্রার্থীরা সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে নিমগাছী মৎস্যচাষ প্রকল্পের ৬৫টি সিমেন্টের খুঁটি ও তিন বান্ডিল তার কাটা (৭৫০ ফিট) একটি ট্রাকে করে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। চেয়ারম্যান হওয়ার আগেই জনসেবায় দৃষ্টান্ত, ঘুড়কায় বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী গোলাম সারোয়ার দুলাল

রায়গঞ্জে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে অদম্য মেধাবীর এইচএসসিতে সাফল্য, এবার স্বপ্ন বিশ্ববিদ্যালয়

Reporter Name / ৩২ Time View
Update : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
অভাব-অনটনের সংসার। বাবা ইমারত নির্মাণশ্রমিক, মা একটি এনজিও অফিসের আয়া। কখনো বাবার কাজ থাকে, কখনো থাকে না। সংসারের এমন টানাপোড়েনের মধ্যেও থেমে থাকেনি ছেলের পড়াশোনা। বাবা-মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রম আর নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে এসএসসির পর এবার এইচএসসি পরীক্ষাতেও জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের মো. মোন্নাফ হোসেন (মুন্না)। তাঁর স্বপ্ন এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে উচ্চশিক্ষিত হওয়া এবং একদিন বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটানো।

মুন্না এবার সরকারি বেগম নুরুন্নাহার তর্কবাগীশ অনার্স কলেজের বাণিজ্য বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এর আগে ২০২৪ সালে ধানঘরা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ অর্জন করেন তিনি। দরিদ্র পরিবারের সন্তান মুন্নার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে বাবা-মায়ের নিরলস পরিশ্রম, ত্যাগ আর তাঁর নিজের অধ্যবসায়।

মুন্নার বাবা রফিকুল ইসলাম পেশায় একজন ইমারত নির্মাণশ্রমিক। মা মোছা. মিরা খাতুন একটি এনজিও অফিসে আয়ার কাজ করেন। সামান্য বেতনে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলের পড়াশোনার খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হয়েছে তাঁদের। অর্থাভাবে কোনো কোচিং সেন্টারেও ভর্তি হতে পারেননি মুন্না। তবুও নিজের চেষ্টা ও বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণায় চালিয়ে গেছেন পড়াশোনা।

মুন্নার মা মোছা. মিরা খাতুন বলেন, ‘ছেলেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করব—এটাই আমার স্বপ্ন। এনজিও অফিসে আয়ার কাজ করে মাসে মাত্র ৬ হাজার টাকা বেতন পেতাম। সংসারে অভাব-অনটন ও ঋণ রয়েছে। তারপরও নিজের প্রয়োজন কমিয়ে ছেলের পড়াশোনার পেছনে টাকা খরচ করেছি। ছেলের এই ফলাফলে আমাদের সব কষ্ট সার্থক মনে হচ্ছে।’

বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ইমারত নির্মাণের কাজ সব সময় থাকে না। কোনো দিন কাজ পাই, আবার কোনো দিন বাড়িতে বসে থাকতে হয়। অভাবের সংসার হলেও ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত করার স্বপ্ন কখনো ছাড়িনি। ছেলে ভালো ফল করেছে, এতে আমরা অনেক খুশি।’

নিজের সাফল্যে বাবা-মায়ের অবদানের কথা স্মরণ করে মো. মোন্নাফ হোসেন মুন্না বলেন, ‘আমার বাবা-মা অনেক কষ্ট করে আমাকে পড়াশোনা করিয়েছেন। তাঁদের কষ্ট আমি কাছ থেকে দেখেছি। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেতে চাই। সেখানে পড়াশোনা করে প্রতিষ্ঠিত হতে পারলে বাবা-মায়ের জন্য কিছু করতে পারব—এটাই আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।’

অভাবের সংসারে বেড়ে ওঠা মুন্নার এই সাফল্য শুধু তাঁর একার অর্জন নয়, বরং সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করতে বাবা-মায়ের নিরন্তর সংগ্রামেরও এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এখন তাঁর স্বপ্ন পূরণে প্রয়োজন উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ও সহযোগিতা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category