সরনজিত সরকার সূর্যঃ
শৈশবে অভাবের তাড়নায় বিক্রি করেছেন ডালি এবং কুলা, পাঁচ ভাই এবং এক বোনের সংসারে দু বেলা অন্য জোটানো ছিলো যেখানে দায়,সেই মানুষটি আজ গড়ছে মহা তীর্থস্থান। কোন বড় বাজেট বা সরকারি অনুদান নয়, ভক্তদের দেওয়া খরচা ৫ টাকা ১০ টাকার খুঁরচো পয়সায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয় এ নির্মাণ করেছেন বিশাল এক মন্দির কমপ্লেক্স, আকাশ ছোঁয়া ভক্তি আর পাহাড় সম বিশ্বাস, গাইবান্ধার পলাশবাড়ি মধ্যরামপুর গ্রামটি এখন আর সাধারণ কোন জনপদ নয়, এক সময়ে পরিত্যক্ত ৪০০ বছরের পুরনো জরাজীর্ণ মন্দির চত্বর এখন অভাবনীয় এক রূপান্তরের সেজে উঠেছে, আরে রূপান্তরের জাদুকর হরিদাস বাবু। শৈশবে চরম দারিদ্রতা দমিয়ে রাখতে পারিনি হরিদাস কে, কঠোর পরিশ্রম আর সততায় নিজের স্বপ্ন সত্যি করেছেন তিনি, মাত্র ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে শুরু করেছিলেন, শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির নির্মাণের কাজ, আজ তা ছাড়িয়েছে ৪০ কোটি টাকার অংক। তিনি বলেন আমরা পাঁচ ভাই ছিলাম আমার বোন ছিল একটা, আমি প্রতিদিনগুলো বানাইতাম, বিক্রি করতাম এবং বাবা বিভিন্ন গ্রামে সেগুলো বিক্রি করতো এবং মানুষের সহযোগিতায় আমাদেরকে মানুষ করেছে, আমি পড়াশোনা করেছি এবং ঢাকা শহরে বিভিন্ন জায়গায় কাজকর্ম করেছি, যখন ব্যবসা করেছি ব্যবসার মধ্য দিয়ে যেটুকু সম্পদ অর্জন করেছি, ওইটুকু সম্পদ আমি আমার ভগবানের কাজে বিলিয়ে দিলাম, এবং সকল সনাতনীদের নিয়ে যে তীর্থস্থান করার প্ল্যান ছিল, এটা আমি কষ্টের মধ্য দিয়ে প্রতিফলন ঘটাচ্ছি।
কোন জমানো তহবিল নয়, সাধারণ মানুষের এক টাকা পাঁচ টাকা দশ টাকায় খরচা অনুদানি হয়ে উঠেছে এই তীর্থস্থান। রোজ এখানে পূজো হয়, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে খাওয়ানো হয় সকাল দুপুর এবং রাতের খাবার আর এই সমস্ত কিছুই পরিচালিত হচ্ছে ভক্তদের দেওয়া প্রণামী টাকায়।