মিতুর জীবনের গল্প (১) আনারুল যখন সকালেও মিতুকে বিদায় জানিয়ে কাজের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল, তখনও তার মনে কোনো সন্দেহ দানা বাঁধেনি। মিতু বলেছিল সে কয়েক দিন বাপের বাড়িতে গিয়ে থাকবে। কিন্তু দুপুরের দিকে আনারুলের মনটা কেমন যেন আনচান করতে থাকে। মিতু ঠিকঠাক পৌঁছাল কি না তা জানার জন্য সে তার শ্বশুরবাড়িতে ফোন দেয়। ফোনের ওপাশ থেকে যখন মিতুর মা জানায় যে মিতু সেখানে যায়নি, তখন আনারুলের বুকের ভেতরটা খাস করে ওঠে। তার সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় যখন সে জানতে পারে মিতু গত দুই দিন ধরে কোনো এক হোস্টেলে তার পরকীয়া প্রেমিকের সাথে সময় কাটাচ্ছে।

​খবরটা পাওয়ার পর আনারুল আর এক মুহূর্ত দেরি করেনি। বুক ফেটে কান্না আসলেও সে নিজেকে সামলে নেয় এবং সোজা সেই হোস্টেলের নির্দিষ্ট কামরার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। ভেতর থেকে ভেসে আসা মিতুর হাসির শব্দ তার কানে তপ্ত সিসার মতো বিঁধছিল। সে সজোরে ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলতেই মিতু আর তার প্রেমিককে অত্যন্ত আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পায়। মিতু তখন পাথর হয়ে যায়, তার সাজানো মিথ্যেটা এভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে সে কল্পনাও করেনি। আনারুল কোনো চিৎকার না করে অত্যন্ত শান্ত গলায় জানায়, তাদের সম্পর্কের সুতো আজ এখানেই ছিঁড়ে গেল।

​ঘটনাস্থলেই সে মিতুকে ডিভোর্স দিয়ে তার পরকীয়া প্রেমিকের হাতে তুলে দেয়। আনারুল স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, যে নারী নিজের স্বামীর বিশ্বাসকে এভাবে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পারে, তার জন্য এই সংসারে আর কোনো জায়গা নেই। মিতু তখন নিজের ভুল বুঝতে পেরে ডুকরে কেঁদে ওঠে। সে আনারুলের পা জড়িয়ে ধরে বারবার মাফ চায়, মিনতি করে বলে জীবনে শেষবারের মতো তাকে যেন একটি সুযোগ দেওয়া হয়। মিতুর চোখের জলে তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।

​আনারুল মিতুর কোনো কথাই শোনেনি। সে জানে, কাচ ভাঙলে যেমন আর জোড়া লাগে না, তেমনি বিশ্বাস একবার ভেঙে গেলে তা আর আগের মতো হয় না। মিতুর হাজারো আকুতি আর কান্নাকাটি পেছনে ফেলে আনারুল ধীর পায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। মিতু তার সেই পরকীয়া প্রেমিকের সাথেই একা হয়ে পড়ে, যাকে পাওয়ার জন্য সে তার পবিত্র সংসার আর স্বামীকে চিরতরে হারিয়েছে।

​সব হারিয়ে মিতু কি এখন তার এই নতুন সঙ্গীর মাঝেই সুখ খুঁজে পাবে? নাকি সেখানে গিয়ে তার সকল মোহ ভাঙ্গবে?