মোঃ মুন্না হুসাইন তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

অনলাইন জুয়া ও বেটিং প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে তরুণদের আসক্তি। বিশেষ করে Melbet নামের একটি আন্তর্জাতিক অনলাইন বেটিং সাইটকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি—এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম দেশের যুব সমাজকে অর্থনৈতিক ও মানসিক ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

কীভাবে ছড়াচ্ছে আসক্তি?

স্মার্টফোন ও সহজ ইন্টারনেট সুবিধার কারণে তরুণরা খুব দ্রুত অনলাইন বেটিং অ্যাপে যুক্ত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন, বোনাস অফার ও “সহজে টাকা আয়ের” প্রলোভন তরুণদের আকৃষ্ট করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুরুতে অল্প টাকার বেটিং করলেও ধীরে ধীরে তা বড় অঙ্কে রূপ নিচ্ছে।

অর্থনৈতিক ক্ষতিঃ

অনেক শিক্ষার্থী ও বেকার যুবক স্বল্প সময়ে লাভের আশায় সঞ্চয় কিংবা ধার করা টাকা বেটিংয়ে খরচ করছে। হেরে গেলে তারা আবার জিততে চেয়ে আরও বেশি অর্থ লগ্নি করছে—যা “লস চেজিং” নামে পরিচিত এক বিপজ্জনক আচরণ। এতে পারিবারিক অশান্তি ও ঋণের বোঝা বাড়ছে।
মানসিক ও সামাজিক প্রভাব
মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন জুয়া আসক্তি মাদকাসক্তির মতোই ক্ষতিকর হতে পারে। এতে উদ্বেগ, হতাশা, অনিদ্রা এবং কখনো কখনো আত্মহানির ঝুঁকিও দেখা দেয়। পরিবার ও সমাজে সম্পর্কের অবনতি ঘটছে।

আইন ও নিয়ন্ত্রণঃ

বাংলাদেশে প্রচলিত আইনে জুয়া নিষিদ্ধ। তবে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বিদেশ থেকে পরিচালিত হওয়ায় নিয়ন্ত্রণ জটিল হয়ে পড়ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঝে মাঝে অবৈধ লেনদেন ও প্রচারণার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখনও চ্যালেঞ্জের মুখে।

করণীয় কী?

অভিভাবকদের সন্তানের অনলাইন কার্যক্রমে নজরদারি বাড়ানো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি
সামাজিক মাধ্যমে অবৈধ বেটিং বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ
তরুণদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও ইতিবাচক বিনোদনের সুযোগ বৃদ্ধি বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল আইন প্রয়োগ নয়—সমন্বিত সামাজিক উদ্যোগই পারে অনলাইন জুয়ার এই ক্রমবর্ধমান প্রভাব থেকে দেশের যুব সমাজকে রক্ষা করতে।