নিজস্ব প্রতিবেদক,
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবার সফরে তিনি দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটে ভাষণ দেবেন। এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মিত্র দেশগুলোর একটি নেটওয়ার্ক গড়তে চায় ইসরায়েল। তার ভাষায় এই জোট একসঙ্গে ‘উগ্র’ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে, যা মূলত এক ধরনের জোটের ষড়ভুজ বা হেক্সাগন। আর যার অংশ হবে ভারত। এর আগে গত রোববার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেশও সেই দেশগুলোর অংশ হবে, যারা ইসরায়েলের সঙ্গে ‘একই দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে’। নেতানিয়াহু গ্রিস, সাইপ্রাসসহ কয়েকটি আরব, আফ্রিকান ও এশীয় দেশের কথাও উল্লেখ করেন। তবে সেসব দেশের নাম স্পষ্ট করেননি। নেতানিয়াহু বলেন, তার কল্পিত পরিকল্পনায় মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে বা এর ভেতরে একটি পূর্ণাঙ্গ জোটব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। মূলত একটি ‘হেক্সাগন’ বা ছয় কোণবিশিষ্ট জোট কাঠামো তৈরি করার কথা বলেন তিনি।নেতানিয়াহুর ভাষায়, বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ ও লক্ষ্য সম্পর্কে যেসব দেশের দৃষ্টিভঙ্গি এক, তাদের নিয়ে একটি অক্ষ বা জোট গঠন করা হবে। এই জোট দাঁড়াবে ‘উগ্র অক্ষ’-এর বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, এর মধ্যে রয়েছে ‘উগ্র শিয়া অক্ষ’, যাদের ওপর ইসরায়েল কঠোর আঘাত হেনেছে। একই সঙ্গে আছে, একটি ‘উদীয়মান উগ্র সুন্নি অক্ষ’।নেতানিয়াহুর বক্তব্যের পর মোদি বলেন, ভারত ও ইসরায়েলের বন্ধনের বিষয়ে তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে পুরোপুরি একমত। তিনি দুই দেশের বহুমুখী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদি লেখেন, আস্থা, উদ্ভাবন ও শান্তি ও অগ্রগতির প্রতি যৌথ প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বকে ভারত গভীরভাবে মূল্য দেয়। ভারত শুরু থেকে ফিলিস্তিনের পক্ষে ছিল। দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে জোটনিরপেক্ষ থাকলেও রাশিয়ার দিকে ঝুঁকেছিল। স্নায়যুদ্ধের সময় দিল্লি হিসাবনিকাশ বদলাতে শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি ভারত ইসরায়েলের সঙ্গেও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এর আগে ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইসরায়েল সফর করেছিলেন মোদি। এর পরের বছরই নেতানিয়াহু দিল্লি সফর করেন। আর সম্পর্কের সে ধারাবাহিকতায় মোদির সময়ে ভারত হয়ে উঠে ইসরায়েলের বৃহত্তম অস্ত্র ক্রেতা। এমন প্রেক্ষাপটে মোদির সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে আরও দৃঢ় করে তুলেছে।