নিজস্ব প্রতিবেদক,
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার মুকিমপুর চর আজ যেন আনন্দ আর মানবতার এক অনন্য উদাহরণে মুখর। সমাজের অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ মেহেরুন, যিনি একসময় ছিলেন একেবারেই অসহায় ও নিঃসঙ্গ—আজ তিনি নতুন আশার আলো দেখছেন মানুষের ভালোবাসায়। মানবিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় আবারও মেহেরুনের পাশে দাঁড়ালেন সমাজসেবী মামুন বিশ্বাস। তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টা ও মানবিক সহায়তায় বদলে যাচ্ছে এক সংগ্রামী জীবনের গল্প।এর আগেও মামুন বিশ্বাস মেহেরুন ও তাঁর দত্তক নেওয়া ৭ বছর বয়সী মেয়ে মেরিনার জীবনে বড় পরিবর্তন এনে দেন। অসহায় এই পরিবারটির জন্য তিনি নিশ্চিত করেন একটি নিরাপদ বসবাসের ঘর।ঘর নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক কাজে প্রদান করা হয় মোট ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৩২ টাকা। পাশাপাশি ওয়াফা আপুর সহযোগিতায় মাসিক ১,৫০০ টাকা নিয়মিত সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়, যা পরিবারটির নিত্যদিনের জীবনে স্থিতিশীলতা এনে দিয়েছে।এই সহায়তার ফলে ছোট্ট মেরিনা এখন সাহস করে স্কুলে যেতে পারছে এবং প্রথম শ্রেণিতে পড়াশোনা শুরু করেছে—যা একসময় ছিল শুধুই স্বপ্ন।আজকের আনন্দঘন মুহূর্ত আরও বিশেষ হয়ে ওঠে প্রবাসী খাদিজা আপার মানবিক অবদানে। তাঁর দুই কন্যা নোহা ও সোহার পক্ষ থেকে মেহেরুনের জন্য পাঠানো হয় ১ লাখ টাকার অনুদান।এই অর্থ যেন সাময়িক সহায়তায় সীমাবদ্ধ না থাকে—সেই চিন্তা থেকেই মামুন বিশ্বাস নেন একটি দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। পুরো অর্থ দিয়ে মেহেরুনের নামে ২০ শতাংশ জমি ক্রয় করা হয়েছে।এই জমিই হবে মেহেরুন ও মেরিনার ভবিষ্যৎ জীবিকার ভিত্তি। এখন থেকে নিজ জমিতে চাষাবাদ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।সমাজ যেখানে প্রায়ই তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের অবহেলা করে, সেখানে এই উদ্যোগ শুধু আর্থিক সহায়তা নয়—এটি সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করার একটি বাস্তব উদাহরণ।স্থানীয়দের মতে, মেহেরুন এখন আর একা নন। মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতায় তিনি নতুন করে জীবন গড়ার সাহস পেয়েছেন।নোহা ও সোহা—দুই শিশুর এই উদার উপহার এবং তাঁদের মা খাদিজা আপুর মানবিকতা এলাকাবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে। একইসঙ্গে নিয়মিত সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে ওয়াফা আপুকেও।স্থানীয়রা বলেন, “মামুন বিশ্বাস না থাকলে এই চরের মানুষের কান্না হয়তো অজানাই থেকে যেত। তাঁর উদ্যোগ আমাদের শেখায়—মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় মানবতা।”আজ মেহেরুন ও ছোট্ট মেরিনা শুধু একটি ঘরই পায়নি—পেয়েছে নিরাপত্তা, সম্মান এবং ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা। মানবিক মানুষের সম্মিলিত ভালোবাসায় বদলে গেছে তাদের জীবনের গল্প।মানুষের জন্য মানুষ—এই চিরন্তন সত্য আবারও প্রমাণিত হলো মুকিমপুর চরে।