মো: মুন্না হুসাইন তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
গ্রাম বাংলার প্রকৃতি এক সময় ছিল নানা ধরনের দেশীয় বনের ফলের ভাণ্ডার। সেই তালিকায় উল্লেখযোগ্য একটি নাম ছিল ‘বেতু’—যা শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে গ্রামীণ মানুষের কাছে ছিল অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয়। কিন্তু সময়ের পরিবর্তন, বনভূমি উজাড় এবং পরিবেশগত অবক্ষয়ের কারণে আজ ঐতিহ্যবাহী এই ফলটি প্রায় হারিয়ে যাওয়ার পথে। একসময় ছিল সহজলভ্য: গ্রামের ঝোপঝাড়, পতিত জমি ও বনাঞ্চলে স্বাভাবিকভাবেই জন্মাতো বেতু। বর্ষা ও শরৎ মৌসুমে পাকা ফল সংগ্রহ করতে ছোট-বড় সবাই ভিড় করত। টক-মিষ্টি স্বাদের এই ফল স্থানীয়ভাবে কাঁচা খাওয়া ছাড়াও আচার বা ঘরোয়া খাদ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হতো।কেন হারিয়ে যাচ্ছে বেতু?স্থানীয় প্রবীণদের মতে, কয়েকটি কারণে বেতুর অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে—নির্বিচারে বনভূমি নিধনকৃষিজমিতে রাসায়নিক ব্যবহারের বৃদ্ধি বসতবাড়ি ও অবকাঠামো সম্প্রসারণ দেশীয় উদ্ভিদের সংরক্ষণে অনীহা ফলে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো বেতু গাছ দিন দিন কমে যাচ্ছে।
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি:
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় ফল ও উদ্ভিদ হারিয়ে গেলে পরিবেশের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। বেতুর মতো বনের ফল শুধু মানুষের খাদ্য নয়, বিভিন্ন পাখি ও প্রাণীরও পুষ্টির উৎস। তাই এই ফল বিলুপ্ত হওয়া মানে জীববৈচিত্র্যের একটি অংশ হারিয়ে যাওয়া। সংরক্ষণে উদ্যোগ প্রয়োজন পরিবেশবিদরা বলছেন, গ্রামাঞ্চলে দেশীয় ফলদ গাছ রোপণ ও সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়াতে হবে। স্কুল-কলেজ পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং বনায়ন প্রকল্পে বেতুর মতো দেশীয় প্রজাতিকে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি অফিস ও বন বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগে হারিয়ে যাওয়া ফলগুলো পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা উচিত।
গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ও প্রকৃতির অংশ হিসেবে ‘বেতু’কে বাঁচিয়ে রাখতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল। নচেৎ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এটি শুধু গল্পেই সীমাবদ্ধ হয়ে থাকবে।