সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি,
সিরাজগঞ্জ কামারখন্দের ভদ্রঘাটে অবস্থিত গণস্বাস্থ্য
গ্রামীণ টেক্সটাইল মিলের বর্জ্যের কারণের দূষিত হচ্ছে ইছামতী নদীর পানি। সরেজমিনে ও তথ্য সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে মিলটি ৫.১ একর জায়গা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় পিছিয়ে পড়া নারীদের আত্ম-কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে। এতে করে এলাকার নারীদের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন হলেও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করছে প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘদিন মিলের সিসাযুক্ত বিষাক্ত বর্জ্য সরাসরি ড্রেনের মাধ্যমে ইছামতী নদীতে ছাড়ছে। শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি শুকিয়ে গেলে পুরো নদী বিষাক্ত লাল বর্ণ ধারণ করে। এতে করে নদীর পাড়ে বসবাসরত মানুষের নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। কারণ হিসাবে শরিফুল ইসলাম, রুবেল খান,ষাটোর্ধ আব্দুল খালেক বলেন,এ সময়ে আমরা নদীতে গোসল তো দূরের কথা গরু মহিষের গোসলও করাতে পারি না। হাঁস দূষিত পানি পান করায় নানা রোগে আক্রান্ত হয় এবং কোন কোন সময় হাঁস মারা যায়। ছোট ছোট মাছ মরে নদীর পানিতে ভেসে উঠছে। এই বিষাক্ত পানিতে ভুল করে গোসল করলে চুলকানি সহ নানা রোগে আক্রান্ত হই। অত্র ওর্য়াডের সাবেক ইউপি সদস্য আক্তার হোসেন তালুকদার জানান,এলাকাবাসীদের নিয়ে বহুবার প্রতিবাদ করেছি, প্রশাসন প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। গণস্বাস্থ্য গ্রামীণ টেক্সটাইল মিলসের অত্র শাখার ব্যবস্থাপক ( জেনারেল ম্যানেজার) ইছাহক আলী বলেন, ইটিবির মাধ্যমে পানি পরিশোধন করে ড্রেন দিয়ে নদীতে ছাড়া হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বলছে অন্যকথা যদি ইটিবি সচল থাকে তাহলে স্বচ্ছ পানি বের হবে তাতে পরিবেশের কোন ক্ষতি হত না। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি দিপক কুমার কর মুঠোফোনে বলেন,শিল্পকারখানার বর্জ্যের পানি পরিশোধন না করে নদীতে অপসারণ গ্রথিত অপরাধ, জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাক্তক হুমকি স্বরুপ ও পরিবেশ আইনের লঙ্ঘন,উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আহবান করছি এ ধরণের প্রতিষ্ঠানকে সীলগালা করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম বলেন, এর আগে প্রতিষ্ঠানটিকে বিষাক্ত পানি নদীতে না ছাড়তে আইনগত নোটিশ প্রদান করা হয়েছে, তবে একই কাজ আবার করায় সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।