নিজস্ব প্রতিবেদক,
পুলিশ প্লাজার পাশ দিয়ে হাঁটছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ—পেছনে তাকিয়ে দেখি ১৪–১৫ বছরের এক কিশোর হোঁচট খেয়ে রাস্তায় পড়ে গেছে। চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে তার ইফতারের দোকানের খাবার। চোখ বেয়ে নীরবে গড়িয়ে পড়ছে পানি।
কিছু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা কোট-প্যান্ট পরা এক ভদ্রলোক কর্কশ গলায় বলল,
“ঐ, একটা ঝাড়ু এনে জায়গাটা পরিষ্কার করে দে!”
মুহূর্তে থমকে গেলাম। এগিয়ে গিয়ে ছেলেটাকে তুলে দাঁড় করালাম। বললাম, নষ্ট খাবারগুলো পলিথিনে ভরে ডাস্টবিনে ফেলতে। ধীরে ধীরে জায়গাটা পরিষ্কার হলো।
জিজ্ঞেস করলাম, কত টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ছেলেটা জানাল—এই টাকাতেই সে আগামীকালের মাল কিনবে, এটাই তার পুরো মূলধন।
একপর্যায়ে বলতে লাগলো, ১০০ টাকা চাঁদা চেয়েছিল দিতে অস্বীকৃতি করায় এমনটা ঘটেছে।
হয়তো আমি তার ক্ষতির কিছুটা পুষিয়ে দিতে পেরেছি,
কিন্তু আজ কোট-প্যান্ট পরা অমানুষদের যে নির্মম মুখটা সে দেখল—
সেটা হয়তো সে কোনোদিন ভুলতে পারবে না।